নিজস্ব সংবাদদাতা: চাইলেও অনির্বাণ ভট্টাচার্য নাকি আর ‘ব্যোমকেশ’ হতে পারবেন না! পঞ্চমীর সন্ধে এমনই খবরে তোলপাড়। বদলে আগামীতে ‘সত্যান্বেষী’র ভূমিকায় নাকি একাই রাজত্ব চালাবেন দেব অধিকারী। আরও ফিসফাস, পরিচালক-অভিনেতা নাকি খবরটি আগেভাগেই জানতেন। তাই নাকি ‘ব্যোমকেশ’ থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা করেছেন তড়িঘড়ি। এত বড় ঘটনার নেপথ্য কারণ কী? জানতে গেলে পিছনে ফিরতে হবে। পঞ্চমীতে হইচই ওয়েব প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের প্রথম এবং শেষ ‘ব্যোমকেশ’ সিরিজ ‘দুর্গরহস্য’। তার আগেই শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপন্যাস নিয়ে বড়পর্দায় ছবি বানিয়েছেন বিরসা দাশগুপ্ত। ‘সত্যান্বেষী’র চরিত্রে দেব অধিকারী। এ ঘটনা বহুশ্রুত। সম্প্রতি সিরিজের পোস্টারমুক্তি উপলক্ষে শহরের প্রথম সারির পাঁচতারা হোটেলে উপস্থিত টিম ‘ব্যোমকেশ’। সেখানেই নির্বাণ ভট্টাচার্যের ঘোষণা, ‘‘১৩ বার ‘ব্যোমকেশ’ হয়েছি। নতুন করে আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। তাই এই চরিত্রে আমায় আর দেখতে পাবেন না।’’ খবর শুনে থমকে গিয়েছিল টলিপাড়া। তার থেকেই প্রশ্ন জেগেছিল তা হলে কি ‘ব্যোমকেশ’ পরিচালনা করতে চলেছেন সৃজিতের ‘ব্লু আইড বয়’? টলিউডের টাটকা খবর, এসভিএফ এবং হইচই-এর কাছে ‘ব্যোমকেশ’-এর কোনও সত্ত্ব নাকি নেই! সব সত্ত্ব কিনে নিয়েছেন প্রযোজক শ্যামসুন্দর দাস। এসভিএফ বা হইচই কোনও ভাবেই আগামীতে সত্যান্বেষীকে পর্দায় ধরতে পারবে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন অনির্বাণ। ‘ব্যোমকেশ’ থেকে আগাম ‘অবসর’ ঘোষণা করে প্রচারের আলো শুষে নিয়েছেন তিনি! আরও খবর, ২০২৩-এর সেপ্টেম্বর থেকে ‘ব্যোমকেশ’ সত্ত্বর হাতবদল হয়েছে। বড়পর্দা বা সিরিজে ব্যোমকেশকে একমাত্র ফিরিয়ে আনতে পারবেন প্রযোজক। এত কাণ্ডের আগেই ১১ আগস্ট মুক্তি পেয়েছে শ্যামসুন্দরের প্রথম গোয়েন্দা কাহিনি। স্বাভাবিক ভাবেই টলিউড দুইয়ে দুইয়ে চার করে নিয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে শ্যাডো ফিল্মসের ‘ব্যোমকেশ’ মানেই প্রযোজক-অভিনেতা দেব। পুজোর আবহে বিষয়টি নিয়ে কোনও পক্ষই মুখ খোলেননি। সৃজিত আপাতত স্ত্রী মিথিলা, মেয়ে আয়রাকে নিয়ে উড়ে গিয়েছেন বিদেশে। বিমানের ভিতরে তিনজনের ছবি দিয়ে সামাজিক পাতায় লিখেছেন, পরিবারের নির্দেশ লক্ষ্মীপুজোর পর যেন সবাই তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন। শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেননি। সিরিজমুক্তির আগে এবং পরে জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক একাধিক বার জানিয়েছেন, এটাই তাঁর প্রথম এবং শেষ ব্যোমকেশ। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে তাই লাখ টাকার প্রশ্ন, অনির্বাণের মতো এসভিএফের ‘ঘরের পরিচালক’ও ঘটনাটা আগাম জানতেন? তাই কি তিনি বারবার এক কথা আউড়েছেন? টলিউড বলছে, সময় উত্তর দেবে।