ত্বক-চুল হোক কিংবা শারীরিক কোনও সমস্যা, আজকাল সমাজ মাধ্যম খুললেই চোখে পড়ে চটজলদি সমাধানের উপায়। বিজ্ঞাপনের প্রলোভনে পা দিয়ে অনেকেই সেই সব ক্রিম, লোশন অথবা ওষুধ ব্যবহার করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কোনও প্রোডাক্ট ব্যবহারে বিপদেও পড়তে হয় অনেককে। যা নিয়ে বরাবর সতর্ক করে এসেছেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু তাতে আর তোয়াক্কা করেন ক’জন। তবে এবার এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে যা দেখে রীতিমতো সকলের ঘুম উড়ে গিয়েছে। বছরের পর বছর একটি ক্রিম মেখে এক মহিলার শরীরে গজিয়েছে সাপের মতো ত্বক। হ্যাঁ, শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও বাস্ততেই নজির মিলেছে এমন ঘটনার। 

চীনের হুবেই প্রদেশের ৪০ বছর বয়সী ওই মহিলা প্রায় এক দশক ধরে ব্যবহার করছিলেন একটি তথাকথিত ‘খাঁটি হের্বাল’ বা ‘পুরোপুরি প্রাকৃতিক’ ক্রিম। ত্বকের চুলকানি ও ফুসকুড়ির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে তিনি নিয়মিতভাবে এই ক্রিম লাগাতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ওষুধই তাঁর জীবনে নিয়ে এল ভয়ঙ্কর পরিবর্তন আনে। তাঁর শরীরে দেখা দেয় সাপের মতো আঁশযুক্ত দাগ ও রেখা।

প্রথমদিকে ওই মহিলা ডান পায়ের পাতায় হালকা লালচে দাগ এবং চুলকানি লক্ষ্য করেন। দ্রুত আরাম পাওয়ার আশায় তিনি অনলাইনে পাওয়া একটি ক্রিম ব্যবহার শুরু করেন, যেটি ‘খাঁটি প্রাচীন চীনা ভেষজ চিকিৎসার’ অংশ বলে প্রচারিত ছিল। শুরুতে ক্রিমটি কিছুটা আরাম দিলেও সময়ের সঙ্গে তিনি সেটির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। প্রায় ১০ বছরের ব্যবধানে তিনি ১ লক্ষ ইউয়ানেরও বেশি অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ লক্ষ টাকার সমান খরচ করেন এই তথাকথিত ‘প্রাকৃতিক’ চিকিৎসায়।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁর ত্বকে ভয়াবহ পরিবর্তন আসতে শুরু করে। পায়ে ফুলে ওঠে বেগুনি ও লাল রেখা, ত্বক শক্ত হয়ে যায়, আর শরীরে দেখা দেয় সাপের চামড়ার মতো নকশা। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, তাঁর দেহে কর্টিসল নামক হরমোনের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এটি দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েডসমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহারের একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় এক ত্বক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, বর্তমানে অনলাইনে অনেক তথাকথিত ‘স্টেরয়েড-মুক্ত’ বা ‘খাঁটি ভেষজ’ নামে বিক্রি হওয়া ক্রিমের মধ্যে আসলে লুকিয়ে থাকে শক্তিশালী স্টেরয়েড উপাদান। এগুলি প্রথমদিকে ত্বকে দ্রুত আরাম দেয়, কিন্তু দীর্ঘকাল ব্যবহারে শরীরের স্বাভাবিক হরমোন ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় এবং ত্বক নিজের সুরক্ষা ক্ষমতা হারায়। এর ফলেই এমন ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে,  কোনও অজানা বা অনলাইনে প্রচারিত হার্বাল ক্রিম ব্যবহার করার আগে অবশ্যই পরামর্শ নেওয়া উচিত। ত্বকে অজানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। শুধুমাত্র ‘প্রাকৃতিক’, ‘হের্বাল’ বা ‘স্টেরয়েড-মুক্ত’ লেখা মানেই নিরাপদ নয়, এমন বিভ্রান্তিকর লেবেল অনেক সময় মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

এই ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা আবারও সতর্ক করেছেন, ত্বকের যত্নে অজানা উৎসের ক্রিম ব্যবহার না করে যাচাই-বাছাই করা চিকিৎসা স্বীকৃত পণ্যই ব্যবহার করা উচিত। কারণ ভুল চিকিৎসা বা অজানা উপাদানের ক্রিম কেবল সৌন্দর্য নয়, পুরো শরীরের হরমোন ব্যবস্থাকেই নষ্ট করে দিতে পারে।