আজকাল ওয়েবডেস্ক: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মুখেই দেখা দেয় বলিরেখা। দেখা দেয় ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়ার সমস্যা, হারিয়ে যায় উজ্জ্বলতা। এই অবস্থায় অনেকেই ব্যয়বহুল প্রসাধনীতে ভরসা রাখেন। কিন্তু দিনের পর দিন রাসায়নিক উপাদানের অত্যধিক প্রয়োগ উল্টে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাই এখন অনেকেই ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক এবং ঘরোয়া উপায় খুঁজছেন। যাঁরা এই ধরনের টোটকার খোঁজ করছেন তাঁদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে লবঙ্গ এবং ভিটামিন ই-এর মিশ্রণে তৈরি এক বিশেষ কোলাজেন ওয়াটার, যা ঘরে বসেই বানানো যায়।
আরও পড়ুন: পুরুষের ওই বিশেষ লোমে কুকুরের থেকেও বেশি জীবাণু থাকে! ঠিকভাবে পরিষ্কার করবেন কীভাবে? জেনে নিন ৬ টিপস
কীভাবে তৈরি করবেন এই টোনার?
প্রথমে এক কাপ জলে এক টেবিল চামচ গোটা লবঙ্গ ফুটিয়ে নিন ৫ থেকে ৭ মিনিট। ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন। এর পরে ১-২টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকে তেল বার করে মিশিয়ে নিন লবঙ্গের জলে। একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে এই মিশ্রণটি ভরে ফ্রিজে রাখুন। তৈরি আপনার টোনার। এটি একদিন তৈরি করলে ৫ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: পুরুষের ওই বিশেষ লোমে কুকুরের থেকেও বেশি জীবাণু থাকে! ঠিকভাবে পরিষ্কার করবেন কীভাবে? জেনে নিন ৬ টিপস
কীভাবে ব্যবহার করবেন?
ব্যবহারের নিয়ম বেশ সহজ। সকালে এবং রাতে পরিষ্কার মুখে হালকা করে স্প্রে করুন। স্প্রে করার পর ধোবেন না, মিশ্রণটি মুখেই শুকিয়ে নিন। চাইলে কটন প্যাড দিয়েও লাগাতে পারেন।
আরও পড়ুন: পুরুষের ওই বিশেষ লোমে কুকুরের থেকেও বেশি জীবাণু থাকে! ঠিকভাবে পরিষ্কার করবেন কীভাবে? জেনে নিন ৬ টিপস
কী কী উপকার হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যাল-এর ক্ষতি থেকে বাঁচায়। এতে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে। অন্যদিকে, ভিটামিন ই গভীর থেকে ত্বককে আর্দ্র করে। ত্বকের বাইরের প্রতিরক্ষা স্তর মেরামত করতেও সাহায্য করে এই উপাদান।
অ্যান্টি-এজিংয়ে কার্যকর: এই টোনার ত্বকে প্রাকৃতিক ভাবে কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে সূক্ষ্ম বলিরেখা ও ভাঁজ ধীরে ধীরে কমে যায়।
ত্বক টানটান করে: ঝুলে যাওয়া ত্বক টানটান হয়, মুখে ফিরে আসে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা।
দাগ হালকা করে: নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের দাগ ও পিগমেন্টেশন অনেকটাই কমে।
সতেজতা আনে: স্প্রে করার সঙ্গে সঙ্গেই নিস্তেজ ত্বক সতেজ হয়ে ওঠে। ত্বকের উপর যে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে সেগুলিকে ছোট দেখায় এবং ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব কমে।
সতর্কতা মানা জরুরি
তবে ত্বকের যত্নে এই টোনার ব্যবহার করার আগে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করাও জরুরি। লবঙ্গের জল কিছুটা ঝাঁঝালো প্রকৃতির হয়, তাই আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিন। অর্থাৎ স্পর্শকাতর অংশে লাগানোর আগে কনুইতে লাগিয়ে দেখে নিন। যাঁদের ব্রণর সমস্যা আছে, তাঁদের ত্বকে এই দ্রবণ ব্যবহার করলে ত্বকের সমস্যা বাড়াতে পারে। দিনে মোটামুটি ১-২ বার ব্যবহারই যথেষ্ট। পাশাপাশি স্প্রে করার সময় দ্রবণ যাতে চোখে যাতে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। দ্রবণ সংরক্ষণ করে রাখার পর যদি গন্ধ বদলে যায়, তবে তা ফেলে দিতে হবে। সে যদি ফ্রিজে রাখা হয়, তাহলেও।
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, বয়সজনিত ত্বকের সমস্যা ঠেকাতে বাইরে থেকে যত্ন নেওয়াও যতটা জরুরি, ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘরোয়া এই ফেস স্প্রে অল্প খরচেই ভাল ফল দিতে পারে। অ্যান্টি-এজিং, বলিরেখা কমানো, ত্বক টানটান রাখা থেকে শুরু করে দাগ হালকা করার মতো নানা সমস্যার সমাধান একসঙ্গে পাওয়া যায় এই লবঙ্গ ও ভিটামিন ই-এর টোনারে।
অর্থাৎ, প্রসাধনীর দোকানের দামী বোতলে ভরসা না করে চাইলে একবার এই ঘরোয়া টোনার ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
