আজকাল ওয়েবডেস্ক: খনিজ তেলের ওপর ভাসছে উত্তর ২৪ পরগনার গোটা অশোকনগর। সেই তেল কবে থেকে উত্তোলন করা হবে তা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। অবশেষে মিলল ছাড়পত্র। রাজ্য মন্ত্রিসভা ওএনজিসিকে খনিজ তেল উত্তোলনের ছাড়পত্র দিয়েছে। ওএনজিসি খুব দ্রুত তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
কয়েক বছর আগেই অশোকনগরের বাইগাছি এবং পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জায়গায় খনিজ তেলের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সেখানে বাণিজ্যিকভাবে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের সূচনা করেন। তারপর থেকে ওএনজিসিও বাংলাজুড়ে তেল ও গ্যাসের সন্ধান শুরু করেছে। উত্তর ২৪ পরগনার শুধু অশোকনগর নয়, পার্শ্ববর্তী দেগঙ্গা ব্লকের চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও খনিজ তেলের সন্ধান মিলেছে। ওএনজিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মোট চারটি জেলায় খনিজ তেলের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সব এলাকার জমি লিজে নিয়ে ওএনজিসি খনিজ তেল উত্তোলন করতে চায়। কিন্তু রাজ্য সরকারের সম্মতির অপেক্ষায় খনিজ তেল উত্তোলনের কাজ থমকে ছিল। অবশেষে রাজ্য মন্ত্রিসভা ওএনজিসিকে খনিজ তেল উত্তোলনের সম্মতি দিল।
জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার ১৩টি জায়গা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁচটি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার তিনটি ও নদিয়ার একটি জায়গায় খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার জন্য জমি চিহ্নিত করার কাজও শেষ হয়ে গিয়েছে। ওএনজিসি জানিয়েছে, প্রতিটি খনিজ তেল প্রকল্পের জন্য গড়ে প্রায় পাঁচ একর জমি লিজে নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা প্রথমে মাটির তলায় আড়াই হাজার থেকে ছ'হাজার মিটারের মধ্যে তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডারের বর্তমান অবস্থা যাচাই করবেন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে দ্রুত ওই এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করে বাণিজ্যিকভাবে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু হবে।
চারটি জেলায় খনিজ তেল মেলার সম্ভাবনার পর ওয়াকিবহাল মহল রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে আশার আলো দেখছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান বাজারে খনিজ তেল এক অতি মহার্ঘ বস্তু। চার জেলা থেকে খনিজ তেল পাওয়া গেলে তা রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়ক হবে। বহু অনুসারী শিল্পও গড়ে উঠবে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, 'রাজ্য সরকার এক টাকার বিনিময়ে ওএনজিসিকে খনিজ তেল প্রকল্পের জন্য জমি লিজ দিয়েছে। খনিজ তেল উত্তোলন প্রকল্প সফল হলে শুধু অশোকনগর নয়, গোটা জেলার অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে যাবে। বহু অনুসারী শিল্প গড়ে উঠবে। কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।'












