ফের গুরুতর বায়ুদূষণের কবলে পড়েছে মহানগর। রবিবার সকালে শহরের একাধিক এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৪৫০ ছাড়িয়ে যায়, যা পরিবেশবিদদের ভাষায় “অত্যন্ত বিপজ্জনক” স্তর। ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে যায় আকাশ, দৃশ্যমানতা কমে আসে এবং সকাল থেকেই শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালার অভিযোগ বাড়তে শুরু করে।
পরিবেশ দফতর সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত যানবাহনের ধোঁয়া, চলমান নির্মাণকাজের ধুলো এবং শীতকালীন আবহাওয়ায় বাতাসের গতি কমে যাওয়াই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা ও রাজ্য থেকে দূষিত বাতাস কলকাতায় ঢুকে পড়ায় দূষণের মাত্রা আরও বেড়েছে। শহরের শিল্পাঞ্চল ও ইটভাটা থেকেও বিপুল পরিমাণ দূষক কণা বাতাসে মিশছে বলে অভিযোগ।
স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, দূষণের প্রভাবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং হাঁপানি ও হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই সময় দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ শহরের বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মাস্ক ব্যবহার, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না বেরোনো এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দূষণের এই ভয়াবহ চিত্রে উদ্বিগ্ন শহরবাসী। পরিবেশবিদদের মতে, স্থায়ী সমাধানের জন্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজে কড়া নিয়ম এবং সবুজায়ন বাড়ানো জরুরি, না হলে ভবিষ্যতে কলকাতার বাতাস আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
