আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ার ২৫ বছরের তরুণী মিশেল সেকওয়েনা জীবনে এক ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়েছিলেন। একসময় ৩২এ মাপের স্তনের অধিকারী ছিলেন তিনি, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই স্তনের আকার হঠাৎ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪জি—প্রায় পাঁচ কাপ সাইজ বড়। এর ফলে তিনি প্রচণ্ড পিঠ, হাঁটু ও ঘাড়ের ব্যথায় ভুগতে থাকেন, দীর্ঘ দূরত্ব হাঁটাও হয়ে পড়ে কষ্টকর।
শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক আঘাত
স্তনের আকার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিশেলের স্তন ব্যথা শুরু হয়, ব্রা পরলেই চুলকানি ও লালচে রঙের দাগ দেখা দিত। বাড়তি ওজনের কারণে তিনি হাঁটতে, বিশ্রাম নিতে এবং ঘুমাতে পারতেন না। ক্রমাগত মাথাব্যথা ও ক্লান্তি তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। জনসমক্ষে গেলে মানুষ তাকিয়ে থাকত, কেউ কেউ ভুল করে ভাবত তিনি গর্ভবতী। মিশেল জানান, “আমার আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি ঢিলেঢালা পোশাক ও হুডি পরে বের হতাম, যাতে লুকানো যায়।”
গিগান্টোমাস্টিয়া—এক বিরল রোগ
ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর পর জানা যায়, মিশেল গিগান্টোমাস্টিয়া নামের এক অত্যন্ত বিরল রোগে ভুগছেন। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক-এর তথ্যমতে, এই রোগে স্তনের টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এটি সাধারণত বয়ঃসন্ধিকাল, গর্ভাবস্থা বা কিছু ওষুধের প্রভাবে হতে পারে, আবার অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই ঘটে। সারা বিশ্বে মাত্র প্রায় ৩০০টি নথিভুক্ত ঘটনা পাওয়া গেছে।
অস্ত্রোপচারের জন্য অনলাইন সহায়তা
মিশেলের জন্য স্তন হ্রাসের অস্ত্রোপচারে খরচ ছিল ৮,০০০ মার্কিন ডলার, যা তিনি সামর্থ্য করতে পারছিলেন না। তাই তিনি নিজের অভিজ্ঞতা টিকটকে শেয়ার করতে শুরু করেন, যেখানে তার ভিডিও ২.২ কোটি ভিউ পায়। বিশ্বজুড়ে অনেকে অর্থ সহায়তা এগিয়ে আসেন, এবং অবশেষে ফেব্রুয়ারিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার স্তনের মাপ ৩৪ডি-তে কমানো হয়—যা সম্ভব সর্বনিম্ন আকার। অস্ত্রোপচারের পর মিশেল বলেন, “এখন আমার জীবন ফিরে পেয়েছি, অনুভূতিটা অসাধারণ।” যদিও রোগটি আবার ফিরে আসবে কিনা জানা নেই, তিনি ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখেছেন।
ব্রাজিলের থাইনারা মারকনদেসের একই অভিজ্ঞতা
ব্রাজিলের ২২ বছরের থাইনারা মারকনদেসও গত বছর একই রোগে আক্রান্ত হন। কয়েক মাসে তার স্তনের ওজন ২৬ পাউন্ড বেড়ে যায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ক্যান্সার হয়েছে, কিন্তু পরবর্তীতে গিগান্টোমাস্টিয়া ধরা পড়ে। তিনি এতটাই শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন যে প্রায়ই হুইলচেয়ারের প্রয়োজন হত। গত অক্টোবরে ১০ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকরা তার স্তন থেকে ২২ পাউন্ড টিস্যু অপসারণ করেন, যার খরচ হয়েছিল ৭,২০০ মার্কিন ডলার। বিশ্বজুড়ে বিরল এই রোগে আক্রান্ত নারীদের গল্প এখন চিকিৎসা গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে, এবং অনেকেই মিশেল ও থাইনারার মতো সাহসিকতার গল্পে অনুপ্রেরণা খুঁজছেন।
