আজকাল ওয়েবডেস্ক: এ যেন একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্য! নিজের জন্মদিনের রাতেই বাড়িতে হানা দিয়েছিল চোর। ধস্তাধস্তির সময় তিন তলার জানলা দিয়ে নীচে পড়ে যান দু'জনেই। কিন্তু চোর পড়ল গৃহকর্তার শরীরের উপর, আর তাতেই কর্তার মাথার খুলি চুরমার হয়ে গেল। রোগীর অবস্থা এতোই খারাপ ছিল যে চিকিৎসকেরা প্রায় জবাব দিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞানের আশীর্বাদে শেষপর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করে অবিশ্বাস্য উপায়ে প্রাণ ফিরে পেলেন যুবক। থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির সাহায্যে টাইটেনিয়ামের খুলি তৈরি করে বছর পঁয়তাল্লিশের আলি চিফচিকে নতুন জীবন দিলেন ইস্তানবুলের চিকিৎসকেরা।

ঘটনাটি ঘটেছিল আলির জন্মদিনে। বাড়িতে চোর ঢুকলে তিনি বাধা দিতে যান। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চোরের সঙ্গে তিনিও ছিটকে পড়েন তিন তলার জানলা দিয়ে। দুর্ভাগ্যবশত, আলি নীচে পড়েন প্রথমে এবং তাঁর শরীরের উপরেই আছড়ে পড়ে চোর। পতনের অভিঘাতে আলির মাথার খুলির প্রায় ৮৩ শতাংশই ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। মর্মান্তিক এই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আলি বলেন, “আমি চোরটার জন্য এয়ারব্যাগের কাজ করেছিলাম। ও আমার শরীরের উপর পা দিয়ে উঠে দেওয়াল টপকে পালিয়ে যায়।” আলি প্রাণে বাঁচলেও চোরকে অবশ্য এখনও ধরা যায়নি।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর পিঠ জিভ দিয়ে চেটে দেয় পুরুষ, স্ত্রী যদি পাল্টা লেহন করে, তবেই হয় মিলন! পৃথিবীর একমাত্র জীবিত ড্রাগন এরাই

দুর্ঘটনার পর আলির বেঁচে ফেরার আশা প্রায় ছিল না বললেই চলে। চিকিৎসকেরা তাঁর পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ। প্রায় ছয় মাস তিনি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আই সি ইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন। পরবর্তী দুই বছর ধরে চলে একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার। অবশেষে প্রাণ রক্ষা হয় তাঁর। কিন্তু প্রাণে বাঁচলেও ভাঙা খুলি নিয়ে তাঁর জীবন হয়ে উঠেছিল অভিশপ্ত। মাথা হয়ে গিয়েছিল চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো। যেন কোনও অদৃশ্য শক্তি জোর করে থেবড়ে দিয়েছে খুলি।
আরও পড়ুন: স্ত্রীর পিঠ জিভ দিয়ে চেটে দেয় পুরুষ, স্ত্রী যদি পাল্টা লেহন করে, তবেই হয় মিলন! পৃথিবীর একমাত্র জীবিত ড্রাগন এরাই

খুলির হাড় ঠিক মতো না থাকায় তিনি সর্বক্ষণ অসহ্য যন্ত্রণা, বিভ্রান্তি এবং অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগতেন। মাথার বিকৃত আকৃতির জন্য তাঁকে লোকজনের বিদ্রূপ করতেও ছাড়ত না। হাসির পাত্রও হতে হত। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সব সময় টুপি পরে থাকতে শুরু করেন আলি। নিজেকে যতটা সম্ভব লোকচক্ষুর আড়াল করে রাখতে থাকেন।

অবশেষে তাঁর দুর্দশা দেখে চিকিৎসকেরা এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। অত্যাধুনিক থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে টাইটেনিয়ামের একটি কৃত্রিম খুলি তৈরি করা হয়, যা নিখুঁতভাবে আলির মাথার বাকি অংশের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সম্ভব। অত্যন্ত জটিল সেই অস্ত্রোপচার শেষ পর্যন্ত সফল হয়। ফের শক্ত খুলি পান আলি। ফিরে আসে মাথার স্বাভাবিক গোলাকার আকৃতিও। অস্ত্রোপচারের এই সাফল্য আলিকে শুধু নতুন জীবন দেয়নি, ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁর আত্মবিশ্বাসও।
হাসিমুখে আলি জানান, “যখন আমি হাসপাতালে যেতাম, চিকিৎসকেরা আমায় দেখে বলতেন, ‘ওই যে, বিস্ময়-মানব এসে গেছে’।” দুই সন্তানের বাবা আলি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। যন্ত্রণামুক্ত তো বটেই, ফিরে পেয়েছেন স্বাভাবিক জীবন। আর তাঁকে মাথা ঢাকার জন্য টুপি পরতে হয় না বা লোকের কৌতূহলী দৃষ্টির সামনে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে হয় না। ইস্তানবুলের এই ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলেই দাবি করেছেন আলির চিকিৎসকেরা।