আজকাল ওয়েবডেস্ক: “বাবার ডায়াবেটিস ছিল, আমারও একদিন হবেই” বংশে ডায়াবেটিস থাকলে এমন ভয় পাওয়া অমূলক নয়। কিন্তু প্রশ্ন হল, বংশে ডায়াবেটিস থাকলেই কি আপনিও তার শিকার হবেন? উত্তর- হ্যাঁ এবং না, দুটোই।
আসুন বুঝে নেওয়া যাক। টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে বংশগতির প্রভাব স্পষ্ট। বাবা-মা, বিশেষ করে উভয়ের যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে সন্তানদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় প্রায় ৫০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে এখানেও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। ডায়াবেটিসে শুধু জিন নয়, জীবন যাপনের অভ্যাসও একটা বড় নিয়ামক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনের গঠন ঝুঁকিপূর্ণ হলেও তা সক্রিয় হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনযাপনের উপর ভিত্তি করে। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন, ঘুমের অভাব- এসব জিনিসই জিনের উপর চাপ তৈরি করে। অর্থাৎ আপনি যদি আগেভাগেই সতর্ক থাকেন, তবে সেই “পারিবারিক অভিশাপ” এড়ানো সম্ভব।
কী করলে ডায়াবেটিস ঠেকানো যায়?
১। নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা (প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিন)
২। শর্করা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো
৩। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
৪। নিয়মিত সুগার টেস্ট করা
৫। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুম
‘প্রিভেনটিভ লাইফস্টাইল’ এখন চিকিৎসাবিদ্যার মূলমন্ত্র। যদি আপনি জানেন আপনার পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাহলে আরও বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। সবশেষে একটাই কথা, জিনও আপনার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে না, যদি আপনি নিজেকে ঠিক রাখেন। তাই ভয় নয়, সচেতনতা-ই হোক ডায়াবেটিস প্রতিরোধের প্রথম ও প্রধান ওষুধ।












