আজকাল ওয়েবডেস্ক: পদপিষ্টের ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যুর পরেই নিউ দিল্লি স্টেশনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পদপিষ্টের ঘটনার পরের দিনই দেখা গেল স্টেশনের নিরাপত্তা সামলাচ্ছেন রেল পুলিশ (আরপিএফ)-এর একজন মহিল কনস্টেবল। কোল এক বছরে শিশু। কাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন সকলে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই আরপিএফের ওই মহিলা কনস্টেবলের নাম রিনা। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিউ দিল্লি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম চত্বরে ভিড় সামলানোর কাজ করছেন রিনা। কোলে তাঁর এক বছর শিশু। ঘুমে কাতর। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, মহিলা দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন সকলে। মাতৃত্বের পাশাপাশি কাজের জায়গার ভারসাম্য বজায় রাখায় সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন ওই মহিলা কনস্টেবল। কিন্তু অনেকেই রেল পুলিশকে কটাক্ষ করেছেন। বাচ্চা কোলে রিনার ছবিগুলি দেখে একজন লিখেছেন, 'এর জন্য কি আমাদের গর্ব বোধ করা উচিৎ।' অন্য একজন লিখেছেন, 'কেউ কী দেখতে পাচ্ছেন না যে, ওই মহিলা ক্লান্ত।' আরও এক ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ''মহিলাকে স্যালুট। কিন্তু একসঙ্গে দু'টি প্রাণের ঝুঁকি নেওয়ার মানে কী। ভারতীয় রেল বা আরপিএফের তো লোকবলের ঘাটতি নেই।''
গত শনিবার রাতে নিউ দিল্লি রেল স্টেশনে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মহিলা এবং শিশু। দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে রেলের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের যুক্তি মিলছে না! দিল্লি পুলিশের দাবি, সব ট্রেন দেরিতে চলছিল। এছাড়া, প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভে যাওয়ার জন্য আচমকাই একটি স্পেশ্যাল এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘোষণা শুনেই যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। যার জেরেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়াগরাজে যাওয়ার দু'টি ট্রেনের নাম গুলিয়ে ফেলার কারণেই যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। প্রয়াগরাজ এক্সপ্রেস ওই সময় ১৪ নম্বর প্লাটফর্মে এসে দাড়িয়েছিল। কিন্তু সে সময় হটাৎই প্রয়াগরাজে যাওয়ার অন্য অপর ট্রেন প্রয়াগরাজ স্পেশ্যাল ১৬ নম্বর প্লাটফর্মে আসছে বলে ঘোষণা করা হয়। আর তাতেই বিপত্তি। ঘোষণা শুনেই যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তির ছড়ায়, শুরু হয় হুড়োহুড়ি। এছাড়াও প্রয়াগরাজে যাওয়ার আরও ৪ ট্রেনের মধ্যে ৩ ট্রেন নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে চলছিল। সে কারণেই স্টেশনে ওইসময় খুব ভিড় ছিল। রবিবার সকালে অবশ্য উত্তর রেলের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, কোনও ট্রেনের প্ল্যাটফর্ম বদল হয়নি। এক যাত্রী ১৪ এবং ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝে ফুট ওভারব্রিজে পড়ে যান। তার জেরে পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রেলের এই বয়ানের পরই দিল্লি পুলিশের দাবি ঘিরে শোরগোল পড়েছে। রেল নাকি পুলিশ, কার যুক্তি অকাট্য তা ঘিরে প্রশ্ন উঠছে। পদপিষ্টের ঘটনার তদন্তে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেল।
(ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)












