আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানা দ্বিতীয়বার স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করে তীব্র হতাশায় ভুগছেন পোল্যান্ডের সবচেয়ে বয়স্ক স্কুল ছাত্র। মধ্য পোল্যান্ডের কালিশ শহরের ৮৫ বছর বয়সী জোসেফ পেরুগা মে মাসে অনুষ্ঠিত হাইস্কুলের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইচ্ছে ছিল মাধ্যমিক পাশ করবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হলেন না তিনি।
2
8
বাংলায় যাকে মাধ্যমিক বা স্কুল ফাইনাল বলে, তাকেই পোলিশ ভাষায় বলা হয় ‘মাতুরা’। এ বছর ২,৫৫,৫০০ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেছিলেন। পরীক্ষা দেন জোসেফও। পোলিশ, জার্মান, গণিত এবং ভূগোল পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি।
3
8
গত বছরও পরীক্ষায় বসেন জোসেফ। গত বছর মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করলেও, অস্ত্রোপচারের পর দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হওয়ায় তিনি পোলিশ এবং গণিতের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
4
8
দমে না গিয়ে, পেরুগা এ বছর আবার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফিরে আসেন, কিন্তু বুধবার তাঁকে জানানো হয় যে তিনি আবারও ব্যর্থ হয়েছেন।
5
8
ফলাফল পাওয়ার পর তিনি বলেন, “আমি একই সঙ্গে আনন্দিত এবং দুঃখিত।” তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে হতাশ হলেও তাঁর নাতিও এই পরীক্ষায় বসেছিল। তারা সসম্মানে পাশ করেছে, এটাই তাঁর আনন্দের কারণ। তবে নিজের রেজাল্ট নিয়ে খুবই হতাশ তিনি। বলেন “খুব দুঃখ হচ্ছে যে আমি পারলাম না”।
6
8
তিনি কি আবার চেষ্টা করবেন? ৮৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ সে বিষয়ে অবশ্য এখনও নিশ্চিত নন। একটি পোলিশ প্রেস এজেন্সিকে পেরুগা বলেন, “লোকে বলে তৃতীয়বার ভাগ্য খোলে, কিন্তু আমি হাল ছেড়ে দিচ্ছি, আমি হয়তো তৃতীয়বার আর চেষ্টা করব না।”
7
8
১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক পরেই তুরেক শহরে পেরুগার জন্ম। শৈশবে তিনি একটি জার্মান ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন। কালিশ শহরে তিনি মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং কর্মজীবনে তালা মিস্ত্রি, বাস চালক এবং কার্পেট কারখানার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।
8
8
ষোলো বছর আগে, বন্ধুদের উৎসাহে তিনি একটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত কারিগরি শিক্ষার স্কুল থেকে স্নাতক হন। তবে সেই শিক্ষালয়টি এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বছরখানেক আগে তাঁর ৬০ বছর বয়সি এক বন্ধু, যিনি ‘মাতুরা’ পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন, তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েই পেরুগা হাইস্কুল ডিপ্লোমা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।