শীতকালকে খাবারদাবারের দিক থেকে বছরের সেরা সময় হিসাবে ধরা হয়। এই সময় ড্রাই ফ্রুটের চাহিদা বেড়ে যায়। বিশেষ করে খেজুরের জনপ্রিয়তা শীতকালে আরও বেশি বৃদ্ধি পায়। মিষ্টি স্বাদের এই ছোট ফলটি শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও এক আশীর্বাদ। খেজুরকে প্রাকৃতিক হেলথ বুস্টার বলা হয়, কারণ এটি সঙ্গে সঙ্গে শক্তি জোগায় এবং শরীরকে ভিতর থেকে পুষ্টি দেয়।
2
6
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুরে এমন অনেক প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা শরীরকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখে। এতে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি— যেমন গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ— শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করলে দু’তিনটি খেজুর খেলে তৎক্ষণাৎ এনার্জি পাওয়া যায়।
3
6
এটি হজমশক্তি উন্নত করে এবং ফাইবারের উপস্থিতির কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেজুর খেলে গ্যাস, অম্লতা বা বদহজমের মতো সমস্যা কমে যায়। শীতকালে খেজুর শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখতেও সাহায্য করে।
4
6
খেজুর হৃদযন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোলেস্টেরল বাড়তে বাধা দেয়, ফলে হার্টের রোগের ঝুঁকি কমে। খেজুরে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করে এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। এর আয়রন শরীরে রক্তের ঘাটতি পূরণ করে, আর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বককে উজ্জ্বল, তরতাজা ও সুস্থ রাখে। গর্ভবতী নারীদের জন্যও খেজুর অত্যন্ত উপকারী, কারণ এটি পুষ্টি, শক্তি ও ফলিক অ্যাসিড সরবরাহ করে।
5
6
খেজুরের উপকারিতা জানার পাশাপাশি এটি কখন এবং কীভাবে খাওয়া উচিত, সেটিও জানা জরুরি। খেজুর কাঁচা খাওয়া যায়, আবার রাতে দুধে ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়াও অত্যন্ত উপকারী।
6
6
খেজুর দিয়ে মিল্কশেক, হালুয়া, লাড্ডু বা মিষ্টি তৈরি করা যায়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের খেজুর সীমিত পরিমাণে খাওয়াই উচিত, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। সঠিক মাত্রায় খেজুর খেলে শরীর সুস্থ, শক্তিশালী ও উজ্জ্বল থাকে।