পহেলগাঁও হামলার পরে ক্রমঅবনতি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের। এই পরিস্থিতিতে উঠে আসছে একজনের কথা। ইতিহাসের তথ্য তুলে ধরে অনেকেই বলে থাকেন এক ব্রিটিশের কথা। তিনি নাকি চেয়েছিলেন, সমস্যা সমাধানের নামে সারাজীবন লাগিয়ে রাখবেন ভারত-পাক বিবাদ। তাঁরই এক সিদ্ধান্তের জেরে সমাধানের বদলে সমস্যা বেড়ে কয়েকগুণ।
2
8
কে এই ব্যক্তি? সিরিল র্যাডক্লিফ। ৭৭ বছর আগে গুরুদায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন ৪০ কোটির ভারতবাসীকে একটি রেখায় মুহূর্তে দু’ ভাগে ভাগ করে দেওয়ার কাজ দেওয়া হয়েছিল। সময় পেয়েছিলেন মাত্র কয়েক সপ্তাহ।
3
8
তথ্য, এই বিরাট গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর কাছে ভারতের ভৌগোলিক অবস্থা সম্পর্কে যেমন ধারণা ছিল না, তেমনই হাতে ছিল না সঠিক মানচিত্র। দুই পক্ষের নেতারা নিজেদের মতো করে তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। র্যাডক্লিফকে প্রায় ১,৭৫,০০০ বর্গমাইল এলাকা ভাগ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
4
8
প্রাকৃতিক সীমানা, সেচ ব্যবস্থা-সহ বেশকিছু বিষয় মাথায় রাখার চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারেননি। বহু পুরনো মানচিত্র, দেশভাগের দাবি সামনে নিয়ে ভূখণ্ডের বুকের উপর দিয়ে, দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীদের মাঝ বরাবর লাইন টেনেছিলেন।
5
8
একদিকে অখণ্ড ভারতের দাবি, অন্যদিকে দ্বি-জাতি তত্ব, স্বাধীনতার কয়েকদিন পরেই প্রকাশ্যে আসে ব্রিটিশ আইনজীবীর সিদ্ধান্ত। যা তাঁর কাছে ছিল কেবল এক লাইন টানার কাজ, সেই লাইন সারাজীবনের জন্য পড়শিদের মাঝে কঠোর লাইন হয়ে রয়ে গেল। কারও জমি, কারও সংসার, কারও ভাতের জোগানের একমাত্র অবলম্বনের উপর দিয়ে চলে গেল সেই রেখা।
6
8
পরিস্থিতি এমন হতে পারে, তা যেমন বুঝতে পারেননি সাধারণ মানুষ, অনেকেই বলেন মুসলিম লিগ, কংগ্রেসের নেতারাও বুঝতে পারেননি। বুঝত্তে পারেননি র্যাডক্লিফ নিজেও।
7
8
যখন বুঝলেন, তখন বহু দেরি হয়ে গিয়েছে। ব্যবচ্ছেদের রেখা তীব্র বিভেদ তৈরি করে দিয়েছে।
8
8
হাহাকার, অশান্তি, মৃত্যু মিছিল-সব মিলিয়ে স্বাধীন দুই দেশের পরিস্থিতি বদলে যায় তাঁর সিদ্ধান্তে। তাঁর সিদ্ধান্তকে সবচেয়ে অবৈজ্ঞানিক আন্তর্জাতিক সীমানা বলা হয়ে থাকে।