সংবাদসংস্থা মুম্বই: এক‌পক্ষের রাজনৈতিক মতাদর্শ যদি হয় ব্রাজিল, অপরপক্ষের হল জাপান। এতটাই বৈপরীত্য, এতটাই দূরত্ব। মতাদর্শ নিয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে পরস্পরের সঙ্গে চলেছে ঠোকাঠুকিও। এই যুযুধান দু'পক্ষের একদিকে রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এবং তাঁর স্ত্রী রত্না পাঠক শাহ। অন্যদিকে রয়েছেন অনুপম খের এবং পরেশ রাওয়াল। এবং রাজনীতি, বলিপাড়া সম্পর্কে যাঁরা ওয়াকিবহাল তাঁরা জানেন শাহ জুটি যতটা বিজেপি বিরোধী ঠিক ততটাই পদ্ম শিবিরের প্রতি তাঁদের ভালবাসা, বিশ্বাস জাহির করতে কার্পণ্য করেন না অনুপম, পরেশরা। তবু তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে কাজ করেন কীভাবে? প্রশ্ন রাখা হয়েছিল রত্না পাঠক শাহ-এর কাছে।

উত্তরে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বলেন, "এমন একটা সময়ে আমাদের বেড়ে ওঠা যখন দু'জন মানুষ পরস্পর মতাদর্শে বিশ্বাসী হলেও পরস্পরের বন্ধু হতে পারত। তাঁরা নিজেরা নিজেদের জায়গায় ঠিক। ভিন্ন মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা চলতে পারে, ঝগড়াও হতে পারে কিন্তু তার আঁচ কখনওই ব্যক্তিগত সম্পর্কে এসে পড়ত না। কিন্তু বর্তমানে সেসবের আঁচ ভীষণভাবে পড়ে। এই ব্যাপারটার আমদানি হয়েছে খুব সাম্প্রতিক সময়ে। এটা কখনওই আমাদের দেশজ সংস্কৃতি নয়!"
সামান্য থেমে রত্না আরও বলেন, "আমার বাবা আর এস এস-এর মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। মা ছিলেন আবার কট্টর বামপন্থী। তাঁদের মধ্যে প্রায়শই তর্ক -আলোচনা চলত কিন্তু দিনের শেষে আমরা কিন্তু সত্যিই একটি সুখী পরিবার ছিলাম। আমার পরিস্কার কথা, আপনার মতের সঙ্গে আমার মিল নাইই থাকতে পারে কিন্তু তাই বলে আপনাকে অপছন্দ করব কেন? 
"অবশ্য এখন তো দেখি এই বিষয়টি ভিন্ন। মতের অমিল হলেই পরস্পরের সঙ্গে স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে ধুম ঝগড়া শুরু করে দেয়। আমার, বলা ভাল আমাদের!" সাফ কথা নাসিরুদ্দিন-পত্নীর।

প্রসঙ্গত, 'কর্মা', 'আ ওয়েডনেসডে' ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন নাসির-অনুপম। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে নাসিরের পরিচালনায় 'ইয়ু হোতা তো ক্যায়া হোতা' ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল পরেশ রাওয়ালকে। পাশাপাশি রত্না পাঠক শাহ-এর বিপরীতে 'হম দো হমারা দো' ছবিতে কাজ করেছেন পরেশ। জানিয়ে রাখা ভাল, অনুপম খেরের সঙ্গে 'ট্রায়াল বাই ফায়ার' সিরিজে কাজ করেছেন রত্না।