নিজস্ব সংবাদদাতা: এই মুহূর্তে মুম্বইয়ে বেশিরভাগ সময় কাটে‌ অভিনেত্রী শোলাঙ্কি রায়-এর। সেখানে অভিনেত্রী হিসাবে ভাগ্য পরীক্ষা করছেন তিনি। একা হাতে সামলাচ্ছেন জীবন। কাজ থেকে শুরু করে নতুন ছবির জন্য অডিশন, এসবের মাঝেই কীভাবে গোটা দিনটা কেটে যায় তা বুঝে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তবে এত ব্যস্ততার মাঝেই কলকাতায় ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। রবিবার পিতৃদিবস বাবার সঙ্গেই কাটাবেন তিনি। বাবার সঙ্গে তাঁর ছোটবেলার স্মৃতির ঝাঁপি যেমন খুললেন তেমনই জানালেন আজকের দিন‌‌ নিয়ে তাঁর ঠিক কী পরিকল্পনা রয়েছে।‌ শুনল আজকাল.ইন।

আজকাল.ইনকে শোলাঙ্কি জানালেন, প্রতিদিন কোনও না কোনও মুহূর্তে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে তাঁর। তবে এদিন আরও বেশি করে বাবার কথা মনে পড়ছে তাঁর। একরাশ স্মৃতি ভিড় করে আসছে মনে। অভিনেত্রীর কথায়, "ছোট থেকেই মায়ের তুলনায় বাবার বেশি কাছের আমি। মা ভীষণ শাসন করতেন। অবশ্য যা দুষ্টু ছিলাম ওঁর কড়া হওয়াটা দরকারও ছিল। তবে বাবা ছিলেন প্রশয়ের জায়গা। বাবার আদরে মায়ের বকাঝকা খাওয়ার কষ্টটা ঢাকা পড়ে যেত"।
সামান্য থেমে মজার সুরে শোলাঙ্কি যোগ করেন, "ছোটবেলায় বাবা ছিলেন আমার অভিভাবক আর এখন আমি ওঁর অভিভাবক। তখন কথা না শুনলে বাবা যেমন মৃদু ধমক দিতেন, শাসন করতেন এখন বাবা নিয়ম না মানলে সেই কাজটাই আমি করি। আসলে, বাবা খুব খেতে ভালবাসেন। বিগ ফুডি। রান্না করতেও ভালবাসেন। আমিও যে নানা ধরনের খাবার চাখতে ভালবাসি, এই স্বভাব বাবার থেকেই পেয়েছি"। 
আসলে বাবার তো বয়স হয়েছে। অনেক খাবারে বারণের তকমা পড়েছে, ওষুধের পরিমাণ বেড়েছে। সেগুলো মানতে চান না উনি। ফলে মায়ের বকা খান। বকা খেয়েও কথা শোনেন না। ব্যাপারটা যখন জানতে পারি, তখন মৃদু ধমক দিয়ে বাবাকে বোঝানোর দায়িত্বটা কাঁধে তুলে নিই", আনমনা গলায় বললেন 'মন্টু পাইলট' অভিনেত্রী।

এখানেই না থেমে শোলাঙ্কি আরও বলে চলেন, "বাবার সঙ্গে একটা খুব মজার স্মৃতি রয়েছে। ছোটবেলায় বাবার থেকে হাতখরচ পেতাম। আমি দুষ্টুমি করলেই মা বাবাকে বলতেন, আমাকে যেন আর হাতখরচ আর না দেওয়া হয়। বাবা মেনে নিতেন। তারপর আড়ালে জানলা থেকে আমাকে হাতখরচের টাকাটা চুপিচুপি ছুড়ে দিতেন"। কথাশেষে অভিনেত্রীর সংযোজন, "বাবাকে পিতৃদিবসের শুভেচ্ছা জানাইনি। আসলে, পুরনো আমলের মানুষ তো এইসব শুভেচ্ছা পেলে খুব লজ্জা পেয়ে যান। পাল্টা জবাবে কী বলবেন সেটা হাতড়ে বেড়ান। তাই আর আলাদা করে জানাইনি।" তাহলে কি পিতৃদিবস নিয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই শোলাঙ্কির? 
জানা গেল,এই মুহুর্তে কাজে ব্যস্ত থাকলেও খানিক পরে বাড়ি ফিরবেন তিনি। রাতের খাবারটা জমিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে খাবেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, "এই পরিকল্পনা সফল হলেই খুশি হবেন বাবা। সঙ্গে আমিও!"