দর্শকের চোখে কতটা যোগ্য হয়ে উঠল 'অযোগ্য'? ছবি দেখে লিখছেন শুভ্রজিৎ মিত্র।

কৌশিকদা-বুম্বাদা-ঋতুর ‘অযোগ্য’ দেখলাম। এককথায় বলতে গেলে মাস্টারক্লাস। পরিচালনা আর অভিনয় দু’দিক থেকেই। উত্তম-সুচিত্রার পরেই এই জুটির নাম। সবচেয়ে সফল বাণিজ্যিক জুটি। একসঙ্গে জুটিতে ৫০টা ছবি করা তো সহজ ব্যাপার নয়। এটা একটা রেকর্ড। ‘প্রাক্তন’ থেকে এই জুটি অন্যধারার ছবি করা শুরু করেছে। সেই সাফল্য ‘অযোগ্য’তেও ধরে রেখেছে।
গল্পের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলব ‘প্রেডিক্টেবল প্লট লাইন’। কিন্ত সেটা পরিচালনা, অভিনয়ের মুন্সীয়ানাতে দর্শকের মধ্যে একটা টানটান উত্তেজনাকে ধরে রাখতে পেরেছে। এখানে আর একজনের কথা না বললেই নয়। সে শিলাজিৎ মজুমদার। ছবির প্রথমে শিলাদার যে হতাশা, ব্যর্থতা, সেটা এত ভাল ফুটিয়ে তুলেছে! বিশেষত একটা দৃশ্যের কথা বলব, যেখানে শিলাদা মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছে, ঋতুর সঙ্গে ঝগড়া হচ্ছে, তারপর রেগে গিয়ে পড়ে যাচ্ছে, ভাতের থালা ছড়িয়ে পড়েছে। ওই সময়ে শিলাদার অসহায় মুখটা দেখে গলার কাছে একটা দলাপাকানো কষ্ট টের পেয়েছি। অসাধারণ মুহূর্ত। শট টেকিং, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলস, বিজিএম-এর ব্যবহার সব নিয়েই তো একটা দৃশ্যের উত্তরণ হয়-- সেখানে পরিচালক হিসাবে কৌশিকদা অনবদ্য। এই দৃশ্যে যে পরিমিতি বোধ দরকার, সেটাই বজায় রেখেছেন পরিচালক। আর একটা দৃশ্যের কথা বলতেই হবে। প্রি ক্লাইম্যাক্সে সমুদ্রের ধারে রাত থেকে ভোর হচ্ছে, বুম্বাদা-ঋতু দাঁড়িয়ে। তাদের কথোপকথন। সত্যিই চোখে জল এনে দেয়। আমার কাছে ওটাই ছবি ক্লাইম্যাক্স। অন্যদের কথা বলতে গেলে লিলি আন্টি, অম্বরীশ, সুদীপদা যথাযথ।
ছবিজুড়ে বুম্বাদা-ঋতু-শিলাদা। ‘প্রাক্তনে’র জন্য প্রসেন যে কাজগুলো করেছে, তার মধ্যে কোথাও প্রতিশোধপরায়ণতা বা নেগেটিভিটি নেই। সে একান্তে পর্ণার মুখোমুখি হতে চেয়েছিল। গানের ব্যবহার অসাধারণ। বিশেষ করে শ্রেয়ার গাওয়া ‘তুই আমার হবি না’। ছবি দেখার পর বুম্বাদাকেও বলেছি, চরিত্রের যে সূক্ষ্ম মোচড় থাকে যেমন চোখের এক্সপ্রেশন, ইন বিট্যুইন দ্য লাইনস, সংলাপের মাঝখানের অংশ, সেটা খুব সু্ন্দরভাবে বুম্বাদা, ঋতু ফুটিয়ে তুলেছে। একটা সরল প্রেমের গল্প-- অভিনয় আর পরিচালনার গুণে তার উত্তরণ দেখার মতো। ছবি দেখার পর একটা কথাই মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, ‘লাভ ইজ রিচ উইথ বোথ হানি অ্যান্ড ভেনম’।