আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের নতুন শ্রম আইন অবশেষে কার্যকর হচ্ছে, যা পুরনো আইনের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা। এই পরিবর্তনগুলি মজুরি, ছুটি, কাজের সময় এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলিকে প্রভাবিত করে।

নয়া আইনের নানা দিক জেনে রাখা নানাস্তরের কর্মীদের জন্য জেনে রাখা প্রয়োজনীয়। এই প্রতিবেদনে নয়া আইনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোকপাত করা হল।

১. স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য এক বছর পর গ্র্যাচুইটি
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি হল গ্র্যাচুইটি। স্থায়ী কর্মচারীরা এতদিন পাঁচ বছর কাজের পর গ্র্যাচুইটি পেতেন। কিন্তু বর্তমানে এক বছরের চুক্তিবদ্ধ কর্মীরাও গ্র্যাচুইটি পাওয়ার যোগ্য। 

২. বেতনভুক্ত ছুটির যোগ্যতা অর্জন আরও সহজ 
বার্ষিক বেতনভুক্ত ছুটির যোগ্যতা অর্জনের জন্য কর্মীদের এখন বছরে ১৮০ দিন কাজ করতে হবে। আগে, এই সীমা ছিল ২৪০ দিন। এর ফলে বহু কর্মী উপকৃত হবেন।

৩, কাজের সময় ও ওভারটাইম বেতন
আট ঘন্টা কর্মদিবস এবং আটচল্লিশ ঘন্টা কর্মসপ্তাহ, যা আগের মতোই রয়েছে। তবে সপ্তাহিক কাজের ক্ষেত্রে কীভাবে ৪৮ ঘন্টা নিয়ন্ত্রণ করা হবে সেই নিয়ম নমনীয়করা হয়েছে। অর্থাৎ, সপ্তাহে চারদিন, পাঁচদিন বা ছয়'দিন কাজের ক্ষেত্রে কত ঘন্চা করে কাজ করানো হবে কর্মীদের তা স্থির হবে কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ে।

ওভারটাইম হবে স্বাভাবিক বেতন হারের দ্বিগুণ। রাজ্যগুলি এখন আগের তুলনায় উচ্চতর ওভারটাইম সীমা অনুমোদন করতে পারে।

৪. নিয়োগপত্র এখন বাধ্যতামূলক
প্রত্যেক কর্মীকে মজুরি, কর্তব্য, কর্মঘণ্টা এবং অধিকার সম্পর্কে লিখিত নিয়োগপত্র পেতে হবে। 

৫. ন্যূনতম মজুরি সকল ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি করা হবে
ন্যূনতম মজুরি এখন সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কেন্দ্র একটি জাতীয় স্তরের মজুরি নির্ধারণ করবে এবং কোনও রাজ্য কেন্দ্র নির্ধারিত নূন্যতম মজুরির কম তা নির্ধারণ করতে পারবে না। এটি মজুরি সুরক্ষাকে পোক্ত করবে।

৬. টেক-হোম বেতন হ্রাস পাবে?
অনেক ক্ষেত্রে, নিয়োগকর্তারা সামগ্রিক CTC সামঞ্জস্য না করলে বেতনের হাতে পাওয়া অংশ কিছুটা কমতে পারে, কারণ বেতনের একটি বৃহত্তর অংশ এখন আইনি মজুরি ভিত্তির অধীনে পড়ে, ফলে বেতনের অংশ থেকে উচ্চহারে পিএফ বা গ্র্যাচুইটি র অংশ কাটা হবে। 

৭. সকল কর্মীর জন্য সময়মত বেতন 
পূর্বে, সময়মত বেতনের নিয়ম শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সীমার নীচে উপার্জনকারীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। এখন, প্রতিটি কর্মচারীর জন্য তা প্রযোজ্য। যা মৌলিক আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করে।

৮. যাতায়াত-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা বলে গণ্য
যদি কোনও কর্মী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাড়ি এবং কর্মক্ষেত্রের মধ্যে ভ্রমণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন, তাহলে তা কর্মসংস্থান-সম্পর্কিত দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এর ফলে ক্ষতিপূরণ, বিমা এবং ইএসআই-এর ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

৯. ভারতজুড়ে ESIC কভারেজের পরিধি বাড়ল
ইএসআই এখন কেবল বিজ্ঞপ্তিকৃত এলাকায় সীমাবদ্ধ নয়। কারখানা, দোকান, বাগান এবং এমনকী ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িত কর্মীরাও এখন এই কভার পাবেন।

১০. চিকিৎসা বিমা, অক্ষমতা কভারেজ এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধা
সাংবাদিক, ওটিটি কর্মী, ডিজিটাল নির্মাতা, ডাবিং শিল্পী এবং ক্রু সদস্যদের এখন আনুষ্ঠানিক নিয়োগপত্র পেতে হবে যাতে মজুরি, কর্মঘণ্টা এবং অধিকার স্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত থাকে।